খুলনার রূপসা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নিহত যুবক হাসিব মৃধাকে হত্যা করেছে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু মো. সোহেল।
নেশা সেবন নিয়ে ঝগড়া, তারপর মৃত্যু
পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে রূপসা নদীর পাড়ে আঠা জাতীয় নেশা সেবনকে কেন্দ্র করে হাসিব ও সোহেলের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সোহেলের আঘাতে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে হাসিব।
তাকে মৃত ভেবে সোহেল লাশটি রূপসা নদীতে ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
নদী থেকে লাশ উদ্ধার কিন্তু পরিচয় অজানা
২৩ সেপ্টেম্বর শিপইয়ার্ড এলাকার বড় পন্টুনের কাছে রূপসা নৌ পুলিশ পচনধরা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। শরীরে পচন ধরায় তখন পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং অজ্ঞাত হিসেবেই লাশটি দাফন করা হয়।
ট্যাটু দেখে শনাক্ত করেন মা
এরপর নিখোঁজ ছেলে হাসিবকে খুঁজতে আসা সুইটি বেগমকে পিবিআই উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখালে তিনি ট্যাটু ও পরনের পোশাক দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন।
পিবিআইয়ের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণেও সোহেলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে।
ঘটনার সময় সোহেল অন্য একটি চুরির মামলায় কারাগারে ছিলেন। পিবিআইর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাসিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
তদন্ত ছিল চ্যালেঞ্জিং: পিবিআই
তদন্ত কর্মকর্তা রেজোয়ান বলেন,
“লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে দাফন হওয়ায় শুরুতে তদন্তে চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে প্রমাণ সংগ্রহ ও সব তথ্য মিলিয়ে হত্যার সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।”
নেশা করার সময় ঝগড়ার জেরে বন্ধুকে খুন, পিবিআইর তদন্তে সত্য উদঘাটন
byJummo Voice – Indigenous News Portal
-
0
